Photobazar24
সোমবার / ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৯

জাতীয়
 লস্কর-ই তৈয়বা বাংলাদেশের জঙ্গিদের উস্কে দিচ্ছে
লস্কর-ই তৈয়বা বাংলাদেশের জঙ্গিদের উস্কে দিচ্ছে

বাংলাদেশের জঙ্গিদের সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক উগ্র জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই তৈয়বার বিশেষ সম্পর্কের কথা জানতে পেরেছে গোয়েন্দারা। তারা ঘাপটি মেরে থাকা বাংলাদেশী জঙ্গিদের উস্কে দিচ্ছে বলেও গোয়েন্দারের কাছে খবর রয়েছে।
অব্যাহত পুলিশী অভিযানে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়া জঙ্গিরা লস্কর-ই তৈয়বার যোগসাজশেই আবার মাথাচাড় দিয়ে উঠছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সূত্রজানায়, ইতিপূর্বে লস্কর-ই তৈয়বার সাথে হেফাজত ইসলামের বিশেষ সম্পর্ক ছিল। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের ডাউকি এলাকা থেকে ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেফতার লস্কর-ই তৈয়বার দুই জঙ্গি সদস্য নাজের পারবন এবং শফিক ওরফে সাহাফাজ শামসুদ্দিন ভারতীয় পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিল, তাদের সঙ্গে ২০০৯ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে চট্টগ্রামের লালখান বাজার মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি ইজহারের পুত্র মুফতি হারুন ইজহারের কয়েক দফা বৈঠক হয়। মুফতি হারুনের সঙ্গে বৈঠক করে তারা মার্কিন ও ভারতীয় দূতাবাসে হামলারও পরিকল্পনা নেয়। লস্কর-ই-তৈয়বার দুই সদস্যের ভারতীয় পুলিশের কাছে এমন স্বীকারোক্তির পর মুফতি হারুনকে  গ্রেফতার করে বাংলাদেশের পুলিশ। ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর মুফতি ইজহার পরিচালিত চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকায় জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার তৃতীয় তলার একটি কক্ষে বিস্ফোরণ ঘটে।  গ্রেনেড ও বোমা তৈরির সময় এই বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর আহত তিন মাদ্রাসা ছাত্র। তারা ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। সূত্র জানায়, বাংলাদেশে শীর্ষ জঙ্গিরা অনেকেই পাকিস্তানের দূর্গম অঞ্চলে লস্কর ই তৈয়বার আশ্রয়ে আছে।
লস্কর-ই তৈয়বার প্রধান খুররম খৈয়ামসহ অন্তত ১২ জঙ্গি নেতা বাংলাদেশি জঙ্গিদের অর্থ ও লজিস্টিক সাপোর্ট দিচ্ছেন। তাদের মাধ্যমে দুবাই, পাকিস্তান ও সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে অর্থ আসছে জঙ্গিদের কাছে। ভারত হয়ে সীমান্ত গলিয়েও অস্ত্রের যোগান আসছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, দেশের বিভিন্নস্থানে ঘাঁটি গেড়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনের জঙ্গিরা। সদস্যদের দেওয়া হচ্ছে বিশেষ প্রশিক্ষণ। জানাগেছে জঙ্গিরা এখন আত্মঘাতি হামলার পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। তারা ইতিমধ্যে একাধিক ব্যার্থ আত্মঘাতি হামলা চালিয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরো এ ধরনের হামলার আশঙ্কা করছে গোয়েন্দারা।
উল্লেখিত দেশগুলোর বিভিন্ন উগ্র ইসলামপন্থী সংস্থা ও এনজিওর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে খুররম খৈয়াম বাংলাদেশের জঙ্গি নেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছে। খুররমের নির্দেশে ইতোপূর্বে লস্কর-ই তৈয়বার একাধিক নেতা গোপনে বাংলাদেশে ঘুরে গেছে বলেও গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছে।
এ ব্যাপারে ডিআইজি ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট হুমায়ুন কবীর বলেন, জঙ্গিরা কৌশল হিসেবে আত্মঘাতি হামলার পরিকল্পনা করছে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে সারাদেশে পুলিশ বাহিনীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
সূত্রমতে আত্মঘাতি জঙ্গিরা পরবর্তী তালিকার টার্গেট হিসেবে গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা এবং পুলিশের উপর হামলা চালাতে পারে বলেও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সরানোর দাবি কলকাতার মুসলিম ছাত্রদের
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সরানোর দাবি কলকাতার মুসলিম ছাত্রদের

কলকাতার বেকার হোস্টেল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য সরানোর দাবি তুলছে মুসলমান ছাত্রদের একাংশ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রজীবনে কলকাতার যে ছাত্রাবাসে থাকতেন, সেই বেকার হোস্টেলের বর্তমান বাসিন্দাদের একাংশ এই দাবি তুলছেন। বেকার হোস্টেলটি মুসলমান ছাত্রদের আবাস।
শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য সরানোর দাবি নিয়ে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসে ছাত্রদের একাংশ মঙ্গলবার যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা জানিয়েছেন যে উপ-দূতাবাসে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ তাদের গতিরোধ করে। তাদের দাবী সনদও জমা নিতে চায়নি বাংলাদেশের উপ-দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় থানার অফিসার-ইন-চার্জ সেটি গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ কামরুজ্জামান।
সরকারি ছাত্রাবাস বেকার হোস্টেলের যে ঘরে শেখ মুজিব থাকতেন, সেটিতে একটি সংগ্রহশালা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে। ওই সংগ্রহশালাতেই বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতির ভাস্কর্য স্থাপন করেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি।
বর্তমানে বেকার হোস্টেলে বসবাসকারী ছাত্রদের মধ্যে যারা ভাস্কর্যটি সরিয়ে ফেলার দাবি করছেন, তারা বলছেন গোটা হোস্টেল চত্বরে ইসলামিক পরিম-ল রয়েছে। সেখানে একটি মসজিদও আছে। তার মধ্যে কোনও ব্যক্তির ভাস্কর্য রাখাকে ‘ইসলাম-বিরোধী’ হিসেবে বর্ণনা করছে দাবি উত্থাপনকারী ছাত্ররা। তবে সেখানে যে সংগ্রহশালা রয়েছে, সে ব্যাপারে তাদের আপত্তি নেই।
কলকাতার বেকার হোস্টেলের একজন শিক্ষার্থী সাহেব আলি শেখ বলেন, এই হোস্টেলে যারা থাকি, সকলেই মুসলমান। এটা একটা ধর্মীয় স্থানও – মসজিদ আছে। ইসলাম ধর্মে মূর্তি পূজা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাই আমাদের হোস্টেলের পরিবেশে কোনও ব্যক্তির মূর্তি রাখা আমরা মেনে নিতে পারছি না।
বেকার হোস্টেলে থেকে এমএ পড়ছেন নাজমুল আরেফিন। তার কথায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। আমাদের হোস্টেলেরই প্রাক্তন আবাসিক। কোনও অসম্মান হোক তাঁর, সেটা আমরা চাই না। কিন্তু একই সঙ্গে এটা একটা ধর্মীয় প্রাঙ্গণ। সেখানে কোনও ব্যক্তির মূর্তি থাকা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না। সংগ্রহশালা করা হোক, লাইব্রেরী করা হোক, কিন্তু মূর্তিটা সরানোর দাবি করছি আমরা।
ওই মূর্তিটা সংগ্রহশালার ঘরে লাগানো কাঁচের দরজার বাইরে থেকেই দেখা যায়। সেখানে অনেক ফুলও দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি। একটা ইসলামিক পরিবেশে মূর্তি থাকাটা হারাম। তাই সেটিকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হোক, বলছিলেন বেকার হোস্টেলের আরেক আবাসিক ছাত্র মুহম্মদ গোলাম মাসুদ মোল্লা।
ঋতিক হাসান বেকার হোস্টেলেই থাকেন। যে কলেজে শেখ মুজিবুর রহমান পড়তেন, সেই মাওলানা আজাদ কলেজেই উদ্ভিদ বিজ্ঞানে অনার্স পড়ছেন। হোস্টেল থেকে কলেজে যাওয়ার পথে তিনি বলছিলেন, বঙ্গবন্ধুকে আমরা সকলেই অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি। কিন্তু ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী মূর্তি রাখা অনুচিত। তাই সেটিকে সরিয়ে দেওয়া হোক।
ছাত্রাবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমান বেকার হোস্টেলের বাসিন্দা হয়ে পড়শোনা করতেন তখনকার ইসলামিয়া কলেজে, যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান নাম মাওলানা আজাদ কলেজ।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই ছাত্রাবাস পরিচালনা করলেও তিনতলার যে ঘরে শেখ মুজিব থাকতেন, সেখানে তৈরি হওয়া সংগ্রহশালাটি তাদের সহযোগিতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস দেখাশুনা করে। ঘরের মূল চাবিটিও থাকে উপ-দূতাবাসেই। অন্য চাবিটি থাকে হোস্টেলের সুপারিন্টেনডেন্ট ও মাওলানা আজাদ কলেজের অধ্যাপক দবীর আহমেদের কাছে।
অধ্যাপক দবীর আহমেদের কাছে অবশ্য আবাসিক ছাত্ররা শেখ মুজিবুর রহমানের মূর্তি সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে কোনও আবেদন জানান নি।
সম্প্রতি ১৭ই মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে ওই সংগ্রহশালায় রাখা ভাস্কর্যে ফুলের স্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় উপ-দূতাবাস সহ নানা সংগঠনের পক্ষ থেকে।
বেকার হোস্টেলের প্রাক্তন আবাসিক ও বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলছিলেন, সেদিন থেকেই শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য সরানোর ব্যাপারে সরব হয় বর্তমান আবাসিকরা।
পশ্চিমবঙ্গের কোনও সিলেবাসে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর সম্পর্কে পড়ানো হয় না। তাই সাধারন ছাত্রদের পক্ষে এটা জানা সম্ভব নয় বঙ্গবন্ধুর জীবন, বাংলা ভাষা, বাঙালী জাতির জন্য তাঁর লড়াই সংগ্রাম কী ছিল। সেজন্যই সংগ্রহশালা হচ্ছে না মূর্তি বসানো হচ্ছে, তা নিয়ে এতদিন ওই হোস্টেলের আবাসিকদের আগ্রহ ছিল না। কিন্তু ১৭ই মার্চের অনুষ্ঠানের পরে ছাত্রদের মধ্যে একটা তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। ওই মূর্তি মুসলিম ছাত্রাবাসে রাখা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কলকাতার যে কোনও জায়গায় সম্মানের সঙ্গে ওই মূর্তি স্থাপন করা হোক, বলছিলেন কামরুজ্জামান।
বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের সূত্র বলছে, তাদের কাছেও শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে বেকার হোস্টেলের ছাত্রদের এই প্রতিক্রিয়ার খবর পৌঁছেছে। বিষয়টি তারা পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং ভারত সরকারের কাছে জানিয়েছেন। কিন্তু তারা এটা বুঝতে পারছেন না যে সংগ্রহশালায় ভাস্কর্য বসানোর এতদিন পরে হঠাৎ করে কেন ছাত্রদের মধ্যে এই প্রতিক্রিয়া তৈরি হলো?
সূত্র : বিবিসি বাংলা

গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রে ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি 
গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রে ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি 

ফটোবাজার ;  মাগুরায় এক জনসভায় বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ও আমেরিকার সহযোগিতায় ক্ষমতায় আসে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসেই সারাদেশে শুরু করে অত্যাচার নির্যাতন। তাদের সেই নির্যাতনের কথা মাগুরাবাসী এখনো ভুলেনি।’
মঙ্গলবার বিকালে মাগুরায় ২৯ টি প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন শেষে এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনারা দেশের স্বাধীনতা পেয়েছেন, বাংলা ভাষায় কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন এবং উন্নয়নের মুখ দেখেছেন আশা করি, আগামী ২০১৯ সালে সেই জাতীয় নির্বাচনেও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আপনারা সেবা করার সুযোগ দিবেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা আপনাদের ভোট চুরি করেছিল, আর ভোট চুরির অপরাধে বাংলাদেশের জনগণ যাদের ক্ষমতা থেকে হটিয়েছে। দুর্নীতি সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মারা যাদের কাজ তারা এদেশে ক্ষমতায় আসলে আবার দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসে মাগুরায় একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হালের গরু নিয়ে তারা জবাই করে খেয়েছে। খেতের ফসল নষ্ট করেছে, পুকুরের মাছ তুলে নিয়েছে, বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে।’ এ সময় তিনি বিএনপির আমলে খুন হওয়া মাগুরার নেতাদের তালিকা পড়ে শোনান।
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, ‘বিএনপির হাতে যেমন দেশের মানুষ নিরাপদ নয় তেমনি ধর্মও নিরাপদ নয়। তারা মানুষকে যেমন পুড়ে মেরেছে তেমনি বায়তুল মোকাররমে কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে।’
শেখ হাসিনা পরপর দুইবার ক্ষমতায় এসে কী কী উন্নয়ন করেছেন এর বিবরণ দেন। আজ মাগুরায় যেসব উন্নয়নকাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন এর তালিকাও জনসভায় পাঠ করে শোনান। এসব উন্নয়নকে তিনি ‘মাগুরাবাসীর জন্য উপহার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মাগুরাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি রেললাইনের। সে দাবি পূরণেরও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিলাম দেশকে ডিজিটাল করবো। আমরা ক্ষমতায় এসে তা করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল এখন সবাই পাচ্ছে। এর মাধ্যমে অনেকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আমরা যুবকদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। এতে তারা বিদেশে গিয়েও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল। এর সুফল জাতি ভোগ করছে আমাদের কল্যাণেই।’
বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। অভিভাবক, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, মুরব্বি, মসজিদের ইমাম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সমাজের সবস্তরের মানুষের কাছে জঙ্গিবাদ দমনে বিশেষ সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে এর খোঁজখবর রাখবেন। ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপারে শিক্ষকদের খোঁজ রাখার আহ্বান জানান তিনি। কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের ভালো হয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখনো সময় আছে, ফিরে আসুন। আমরা সুন্দর জীবন গড়তে যা যা করার সব ব্যবস্থা করে দেব।’
শেখ হাসিনা জানান, বিএনপির আমলে দেশে বিদ্যুতের হাহাকার ছিল। কিন্তু এখন পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ মজুদ আছে। তিনি জানান, ২০২১ সালের মধ্যে দেশের কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না। প্রত্যেক ঘরে ঘরে আলো জ্বলবে।
জনসভার শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী মাগুরাবাসীর কাছে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন। দেশের উন্নয়নে গতি ধরে রাখতে আবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, তার হারানোর আর কিছু নেই। জাতির জনকের কন্যা হিসেবে তিনি প্রয়োজনে বাবার মতো বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও দেশবাসীর জন্য কাজ করবেন।

বঙ্গবন্ধু আজীবন বাঙালীর জন্য সংগ্রাম করেছেন 
বঙ্গবন্ধু আজীবন বাঙালীর জন্য সংগ্রাম করেছেন 

ফটোবাজার ; বঙ্গবন্ধু নিজে তার জন্মদিন পালন করতেন না। একজন বিদেশী সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, আমার জন্মই কি আর মৃত্যুই কি। আমার মনে হয় তিনি হয়তো নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন প্রতিটি জনগণের মুখে হাসি না ফোঁটা পর্যন্ত তিনি জন্ম দিন পালন করবেন না। এখন আমরা তার জন্মদিন পালন করি কেননা আমরা তার জন্মদিন পালন করতে বাধ্য। আসলে তার জন্মের সাথে বাংলাদেশের জন্মটা জড়িয়ে আছে। এই মানুষটির জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তিনি সারাটি জীবন বাঙালীর জন্য কাজ করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে চ্যালেন আইয়ের আজকের সংবাদপত্র অনুষ্ঠানে এমন্তব্য করেন অধ্যাপক, গবেষক ও ইতিহাসবিদ ড. আনোয়ার হোসেন।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু একেবারে কিশোর বয়স থেকেই রাজনীতি করতে শুরু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমি মারা গেলে আমার কবর যেন টুঙ্গীপাড়ায় দেওয়া হয় এবং আমার কবরে যেন একটা টিনের চুঙ্গা লাগানো হয়।

তখন তাকে বলা হয়েছিল মসলমানদের কবরে তো টিনের চুঙ্গা লাগানো হয় না। তখন তিনি বলেছিলেন, টিনে চুঙ্গা লাগাতে বলছি এই কারণে যে, আমি একদিন এই টিনের চুঙ্গায় বাঙালী, বাঙালী বলতে বলতে রাজনীতি শুরু করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, ফাঁসির মঞ্চে যাওয়া লাগলেও আমি বলবো, আমি বাঙালী, বাংলা আমার ভাষা এবং বাংলা আমার দেশ। এই মানুষটি বাঙালীর জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।

আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, আমরা জানি ৫৫ বছর বয়সে তাকে হত্যা করা হয়েছে আর এর মধ্যে তার ১৪ বছরই কেটেছে জেলে। ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই তাকে প্রথম কারারুদ্ধ করা হয় এবং বাঙালীর ৬ দফার সনদও তার হাত দিয়েই বেড়িয়ে এসেছে।



সর্বশেষ খবর